Ticker

8/recent/ticker-posts

মাছ চাষে পি.পি.টি ও পি.পি.এম এর গুরুত্ব

 আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষে পি. পি.টি ও পি.পি.এম এর গুরুত্ব অপরিসীম। এ দুইটি বিষয় না জানলে সঠিকভাবে ঔধুধ প্রয়োগ করা যাবে না এবং মাছ চাষে কাঙ্খিত ফল পাওয়া যাবে না। তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো....

পি.পি.এম ও পি.পি.টি  বলতে কি বুঝায় এর সহজ বর্ননা।

------

পি.পি.এমঃ 

সাধারণত চিংড়ি হ্যাচারি পরিচালনাকালে ও মাছ চাষে ঔষধ বা অন্য কোন রাসায়নিক  প্রয়োগের ক্ষেত্রে পি.পি.এম  মাত্রা শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

পি.পি.এম কথার অর্থ হল পার্টস পার মিলিয়ন ( Parts per million) বা ১০ লক্ষ ভাগ পানিতে কতভাগ ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে। 


সহজ বিশ্লেষণঃ

মনে করুন একটা পুকুরের পানিতে বা চিংড়ি  হ্যাচারির চৌবাচ্চায় কোন ঔষধপত্র বা চুন, সার ইত্যাদি  ১ পি.পি.এম( ১ মিলিয়নে ১)  হারে প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে। এর অর্থ হল পুকুর বা চৌবাচ্চায় ১০ লক্ষ কেজি( ১ মিলিয়ন কেজি)  পানি থাকলে ১ কেজি বা ১০ লক্ষ লিটার পানি থাকলে ১ লিটার ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে। 

কথা হল কিভাবে ঔষধের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে? 

পুকুর বা চৌবাচ্চায় পানি থাকা অংশের  দৈর্ঘ্য ( মিটার) x প্রস্থ( মিটার)x গড় গভীরতা ( মিটার)=...... কত কিউবিক মিটার পানি জানা যাবে। ১ কিউবিক মিটার পানি= ১০ লক্ষ গ্রাম পানি বা ১০ লক্ষ মিঃ লিঃ পানি। এখন পুকুর বা চৌবাচ্চায় যত কিউবিক মিটার পানি আছে তাহা ১ পি.পি.এম দিয়ে গুণ(x) করলে কতটুকু ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে তা জানা যাবে। ঔষধ শুষ্ক হলে হিসাব গ্রামে হবে এবং ঔষধ তরল হলে হিসাব   মিঃ লিটারে হবে। ঔষধের পরিমাণ মিঃ লিঃ বা গ্রামে নির্নয় করার পর তা ১০০০ দিয়ে ভাগ করলে কত লিঃ বা কত কেজি ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে তা জানা যাবে। 


অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ঃ 

কোন ঔষধপত্র ও রাসায়নিক দ্রব্য পি.পি.এম হারে প্রয়োগের হিসাব করতে ঔষধে থাকা একমাত্র সক্রিয় উপাদানই বিবেচনা করতে হবে। মনে করুন পুকুরের পানিতে ১.৫ পি.পি.এম হারে বি.কে.সি( BKC) প্রয়োগ করতে বলা হল। বি.কে.সি  ৫০% ও ৮০% থাকতে পারে। বি.কে.সি ৫০% হলে ৩ পি পি.এম হারে প্রয়োগ করলে ১.৫ পি পি.এম হবে। পি.পি.এম সর্বসময় সক্রিয়  উপাদান বুঝায়। ১০%, ২০%, ৫০% ইত্যাদির পি.পি.এম এক হবে না। পি.পি.এম হল ঔষধ ১০০% হলে কত পরিমাণ প্রয়োগ করতে হবে তা। কিন্তু কতিপয় সাধারণ লোক এবং মৎস্য ও চিংড়ি হ্যাচারি কর্মী  বিষয়টি না বুঝে বিভিন্ন % এর ঔষধ একই হারে প্রয়োগ করার বিষয়টি আমার জানা। এমনিভাবে ঔষধ বা রাসায়নিক দ্রব্য প্রয়োগ করে কোন ফলাফল পাওয়া যায় না এবং যাবে না এবং বিষয়টি পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।  তাছাড়া, এমনি ধরনের ভুল মাত্রায় ঔষধ ও  জীবাণু নাশক প্রয়োগের ফলে পরিবেশে রেসিস্টেন্ট জীবানু সৃষ্টি হয় এবং মানব স্বাস্থ্যের চরম ঝুঁকি সৃষ্টি করে। 

উল্লেখ্য যে, কোন ঔষধের বা রাসায়নিকের মোড়কে কোম্পানি কতৃক ঐ ঔষধের বা রাসায়নিকের প্রয়োগের কার্যকর  মাত্রা সুনির্দিষ্ট ভাবে লিখা থাকলে ঐ মাত্রায় প্রয়োগ করা উচিত।

পি.পি.টিঃ 

সাধারণত সমুদ্রের পানি বা পানিতে কি পরিমাণ লবণাক্তা আছে তা পি.পি.টি হিসাবে প্রকাশ করা হয়। 

পি.পি.টি এর অর্থ হল পার্টস পার থাউজ্যান্ড (Parts per thousand). এর অর্থ হল ১ হাজার অংশ পানিতে কত অংশ লবণ আছে বা ১ হাজার কেজি পানিতে কত কেজি লবন আছে। ১২ পি.পি.টি লবনাক্ততার অর্থ ১ হাজার কেজি পানিতে ১২ কেজি লবণ বা লবনাক্ততা আছে। পুকুরের পানিতে ১ পি.পি.টি হারে লবণ প্রয়োগ করতে হলে প্রতি ১ হাজার কেজি পানিতে ১ কেজি লবণ প্রয়োগ করতে হয় বা হবে।

৷৷৷৷ ধন্যবাদ৷৷৷৷৷

 কৃষিবিদ আরিফ হাসান 

বি.এস.সি ফিসারিজ (অর্নাস)

এম.এস. ইন কোষ্টাল এন্ড মেরিন ফিসারিজ 

ম্যানেজার এলিয়া ফিডস লিমিটেড 

ariftech100@gmail.com








Post a Comment

0 Comments

Ad Code

Responsive Advertisement