Ticker

8/recent/ticker-posts

প্রটোজোয়ান পরজীবীর দ্বারা সংঘটিত রোগঃ

 Myxosporidiasis:
এ রোগ Myxozoa শ্রেণীর Myxosporean উপশ্রেণীর পরজীবী দ্বারা সংঘটিত  হয়ে থাকে। এগুলো মূলত প্রটোজোয়ান (Protozoan) গ্রুপের পরজীবী। Myxozoa শ্রেণীর প্রায় ১৩০০ এর উপর প্রজাতি রয়েছে। তন্মধ্যে  Myxobolus জেনাসের ৭৪৪ টি প্রজাতি রয়েছে। এরা আণুবীক্ষণিক।  সকল প্রজাতির পরজীবীই  মাছের রোগের কারন নয়। মাছ বেশিরভাগ প্রজাতির পরজীবীর আক্রমণকে প্রতিরোধ করতে পারে। এ পরজীবীগুলো মাছের বিভিন্ন অঙ্গ -প্রত্যঙ্গে সিস্ট (cyst) তৈরি করে।

Life cycle:
Myxozoa শ্রেণীর পরজীবীর জীবনচক্র সম্পূর্ণ করতে দুইটি পোষক(host)  প্রয়োজন হয়। Annelid পর্বের জলজ অমেরুদণ্ডী প্রাণী যেমন- কেঁচো, টিউবিফেক্স,জোঁক, ফিতাকৃমি ইত্যাদি প্রাণীকে প্রাথমিক পোষক (Intermediate host) এবং মেরুদণ্ডী প্রাণী, বিশেষ করে মাছকে দ্বিতীয় অর্থাৎ শেষ পোষক হিসেবে ব্যবহার করে তাদের জীবনচক্র সম্পূর্ণ করে। Wolf & Markiw, 1984 গবেষণা করে দেখেছেন Myxobolus cerebralis পরজীবীটিকে  সরাসরি Salmonid মাছকে খাওয়ালে মাছ আক্রান্ত হয় না। কিন্তু এই পরজীবী টিউবিফেক্সকে খাওয়ালে Triactinomyxon জেনাসের স্পোর তৈরি করে। এই স্পোর পরবর্তীতে Salmonid  মাছকে  আক্রান্ত  করে। পোষকে স্পোর তৈরির মাধ্যমে এদের জীবনচক্র সম্পূর্ণ করে এবং বংশ বৃদ্ধি করে। প্রতিটি স্পোরে ১/২ টি sporoblast cell ধারন করে। এই sporoblast চলাচল করতে(motile) পারে, একে amoebula বলে। এই  amoebula  পোষোকের টিস্যুর মধ্যে ঢুকে পরে এবং বৃদ্ধি  পেয়ে multinucleate plasmodiaতৈরি করে। পরবর্তীতে এই nuclei বা  plasmodia জোড়া বেঁধে নতুন স্পোর তৈরি করে। স্পোর তৈরীর একটি diagram নিম্নে দেখানো হলো।

 Symptoms :
Myxosporidia, Order এর অনেকগুলো পরজীবী আছে  যারা স্বাদু পানির যেকোন মাছের  যেকোন অঙ্গে আক্রমণ করে থাকে।

♦মাথা ঘোরা রোগ সৃষ্টি করে( Whirling disease):
Myxobolus lieni পরজীবীটি সিলভারকার্প ও বিগহেড মাছের স্নায়ুতন্ত্রে (Brain)আক্রমণ করে মাথাঘোরা রোগের সৃষ্টি করে। অনুরুপভাবে Myxosoma cerebralis   পরজীবী Salmonid মাছের মাথাঘোরা রোগের সৃষ্টি করে।
বিশেষভাবে লক্ষণীয় বিষয় হলো মাছের মাথা ঘুরলেই মাছ, এ পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে এমন ধরে নেয়া যাবে না। কারণ পুকুর বা জলাশয়ে অ্যামোনিয়া ও নাট্রাইটের আধিক্যের কারণেও মাছ  ঘোরে। এক্ষেত্রে মাছ এক বা দুই পাক দিয়েই উলটে যায় বা শুকনোয় লাফিয়ে উঠে এবং অনেক সময় ফুলকা, মুখ, চোখ দিয়ে রক্ত বের হয়।

পক্ষান্তরে এরুপ পরজীবীর দ্বারা আক্রান্ত হলে মাথা এমনভাবে ঘুরবে যেমন বোতল কাত (horizontal)  করে বোতলের ছিপি বা মুখা খুলতে বা আটকাইতে মুখা বা ছিপি যেমন করে ঘুরে তেমন। সাধারণত সিলভারকার্প অথবা বিগহেড মাছের ধানী বা আঙ্গুলে পোনা এ পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত হয়। ছোট আকারের পোনা মাছের অন্ত্রে এ পরজীবীর স্পোর থেকে স্পোরোজোয়াইট(sporozoites) তৈরি হয়। এই স্পোরোজোয়াইট রক্তের মাধ্যমে বাহিত হয়ে মাছের মস্তিস্কে আক্রমণ করে। ফলে পোনামাছ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং ঘুরতে থাকে।পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ১/২ মাস পর মাথা ঘোরার এমন লক্ষণ দেখা দেয়। মাথা ঘোরার একটি ভিডিও নিচে দেয়া হলো।

♦স্বাদু পানির বিভিন্ন মাছের ত্বক ( skin) নিম্নের পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত হয়।
Myxobolus abitus,
Myxobolus ellipsoides,
 Myxobolus cyprinicola,
Hennerguya sinensis.
যেমনঃ-
Thelohanellus rohitae,(রুই মাছের ত্বক ও ফুলকা আক্রান্ত করে)
Myxobolus koi, ( কৈ মাছের ত্বক আক্রান্ত করে)


♦স্বাদু পানির বিভিন্ন মাছের ফুলকা(gill) নিম্নের পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত হয়।
 Myxobolus musculi,
 Myxosoma varius,
 Sphaerospora amurensis,
 Myxobolus dipar.
যেমনঃ-
Myxobolus catlae( কাতলা ও মৃগেল মাছকে আক্রান্ত করে)

♦বিভিন্ন মাছের অন্ত্রে (Intestine) পাওয়া যায়।
Myxobolus lomi, M. sinensis, M. lieni, M. artus, M. symetricus etc.

♦ বিভিন্ন মাছের পিত্তথলী ( Gall-bladder) কে আক্রান্ত করে।
Myxobolus clarii( মাগুর মাছের পিত্তথলী,যকৃত,শূক্রাশয়,ডিম্বাশয় এবং শরীরের স্ফিত অংশে আক্রমণ করে)
Chloromyxum amphipnoui ( কুচিয়া মাছের পিত্তথলীকে আক্রমণ করে)
 Myxidium heteropneustesi,  Zschokkella fossilia, chloromyxum amphipnoui এরা শিং মাছের পিত্তথলীকে আক্রমণ করে।

Treatment/ Managementঃ
১) পুকুর শুকিয়ে পরজীবী  নিয়ন্ত্রণ  করা যাবে। তবে পুকুর বা জলাশয়  শুকিয়ে এমনভাবে শক্ত করতে হবে যাতে তলা দিয়ে হেঁটে গেলে পুকুর বা জলাশয়ের তলায় পায়ের দাগ না পরে।

২) পুকুর প্রস্তুতির সময় পানি কমিয়ে কুইক লাইম বা পোড়া চুন ( CaO) প্রয়োগ করে পানির pH ১১.০ এর ওপরে কয়েকদিন রাখা হলে সকল পরজীবী,  স্পোর ও পোষক(Intermediate and secondary host) মারা যাবে। এ পদ্ধতিতে প্রটোজোয়ান পরজীবীর আক্রমণ হতে মাছকে সহজেই রক্ষা করা যাবে। পানির  pH ১১.০ এর ওপরে না গেলে প্রচলিত মাত্রায় চুন দিয়ে পরজীবী  বা রোগসৃষ্টিকারী জীবাণু নাশ করা যাবে না।
অথবা
৩) পুকুর প্রস্তুতির সময় পুকুরের মাছ সরিয়ে নিয়ে তলদেশে অল্প পানিতে (৫/৬ ইঞ্চি ) ৫০-৬০ গ্রাম/শতক এই হারে ব্লিচিং পাউডার (৩০% ক্লোরিন যুক্ত)পানিতে গুলিয়ে সমস্ত পুকুরে ছিটিয়ে দিলে এ ধরনের পরজীবী ও পরজীবীর স্পোর(spore) মারা  যাবে।

৪) চাষের সময় এ ধরনের পরজীবী দ্বারা মাছ আক্রান্ত হলে ৩০-৩৫% ক্লোরিনযুক্ত ব্লিচিং পাউডার ১২ গ্রাম/শতক/ফুট পানি এই হারে অথবা ৬৫% ক্লোরিনযুক্ত ব্লিচিং পাউডার ৬ গ্রাম/শতক/ফুট পানি এই হারে পানিতে  গুলিয়ে সমস্ত পুকুর বা জলাশয়ে  ১৫ দিন পর পর দুইবার ছিটিয়ে দিলে  রোগ সৃষ্টিকারী স্পোর মারা  যাবে। এছাড়া শীতের পর উল্লেখিত মাত্রায় ব্লিচিংপাউডার পুকুর বা জলাশয়ে প্রয়োগ করলে পরবর্তীতে এ পরজীবীর দ্বারা মাছ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।


Post a Comment

0 Comments

Ad Code

Responsive Advertisement