পুকুর ও জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে উত্তম নিয়ামক হলো কার্বন - নাইট্রোজেন অনুপাত ( C:N)।
আধানিবিড় বা নিবিড় চাষ পদ্ধতিতে চাষিরা বিভিন্ন প্রজাতির মাছচাষের পুকুর বা জলাশয়ে ২৫- ৩৫% প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য প্রয়োগ করে থাকেন। এসব খাদ্যে কার্বন(C) ও নাইট্রোজেন( N) উভয় ধরনের মৌলই রয়েছে।
বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন, মাছচাষের পুকুরে যত বেশি উচ্চমাত্রার প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য প্রয়োগ করা হবে সেই পুকুরে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বেশি হবে এবং কার্বনের পরিমাণ কমে যাবে। নাট্রোজেনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া অর্থই হলো পুকুর বা জলাশয়ে ক্ষতিকারক অ্যামোনিয়া ও নাইট্রাইটের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া।
এই অ্যামোনিয়া ও নাইট্রাইটকে জুওপ্লাংক্টনে রুপান্তর করে চাষের পুকুর বা জলাশয় থেকে এসব ক্ষতিকর গ্যাস দূর করার জন্য C:N এর অনুপাত ১৫-২০ঃ১ হওয়া বাঞ্ছনীয়।
আমরা মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য উন্নতমানের খাদ্য প্রয়োগ বলতে উচ্চ হারের প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য প্রয়োগ করাই বুঝি। উন্নতমানের এই খাদ্য ক্ষেত্র বিশেষে মাছের শরীরের ওজনের ২-১০% হারে প্রয়োগ করে থাকি।
নিম্নে Professor Yoram Avnimelech, Technion, Israel Institute of Technology, Haifa, Israel এর গবেষণা লব্ধ বিভিন্ন মাত্রার প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য প্রয়োগে C:N অনুপাতের একটি হিসাব নিম্নে দেয়া হলো।
দেখা যাচ্ছে যত বেশি উচ্চ মাত্রার প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য প্রয়োগ করা হয়েছে , মাছ চাষের পুকুরে ততই কার্বনের পরিমাণ কমে গিয়েছে, অপরদিকে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছে।
Professor Yoram এর গবেষণালব্ধ C:N অনুপাত (প্রায়)-
২০% প্রোটিনের খাদ্য প্রয়োগে C:N=16:1
২৫% প্রোটিনের খাদ্য প্রয়োগে C:N=13:1
৩০% প্রোটিনের খাদ্য প্রয়োগে C:N=11:1
৩৫% প্রোটিনের খাদ্য প্রয়োগে C:N=9:1
৪০% প্রোটিনের খাদ্য প্রয়োগে C:N=8:1
সুতরাং উচ্চমাত্রার প্রোটিন যুক্ত খাদ্য প্রয়োগে পুকুর বা জলাশয়ে কার্বন ও নাইট্রোজেনের সৃষ্ট এই অনুপাত জুওপ্লাংক্টন উৎপাদনের জন্য সহায়ক নয়। হয়তো ভাবতে পারেন জুওপ্লাংক্টন তৈরি না হউক পুকুরে মাছের জন্য খাদ্যতো প্রয়োগ করছি। কিন্তু এর ফলে কি হয়?
মাছচাষের পুকুরে TAN( total ammonia nitrogen) এর পরিমাণ বৃদ্ধি পায় আর এই অ্যামোনিয়া মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে বাধা দেয় (Growth inhibitor)। এরুপ মাছচাষে FCR বেশি হয়। মাছচাষ অলাভজনক হয় বা ধবংস হয়। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে পুকুরে অ্যামোনিয়া ও নাইট্রাইটের আধিক্য থাকলে মাছে বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দেয়।
কিন্তু মাছচাষের পুকুরে C:N =১৫- ২০:১ অনুপাতে থাকলে হিটারোট্রফিক ব্যক্টেরিয়া এই কার্বন ও নাইট্রোজেন কে জুওপ্লাংক্টন ( Biofloc) এ রুপান্তরিত করে এবং নাইট্রিফাইং ব্যাক্টেরিয়া ক্ষতিকর অ্যামোনিয়া (NH3) ও নাইট্রাইট ( NO2) গ্যাসকে ননটক্সিক নাইট্রেটে (NO3) এ রুপান্তরিত করে।
সুতরাং আধা নিবিড় বা নিবিড় পদ্ধতির মাছচাষকে লাভজনক করতে গেলে পুকুরের C:N অনুপাত অনুকূল মাত্রায় নেয়ার জন্য পুকুরে গুণগত মানের খাদ্যের পাশাপাশি কার্বোহাইড্রেড জাতীয় ( কার্বন উৎস্যের জৈব পদার্থ যেমনঃ- গমের আটা, চাউলের গুড়া,অটো রাইস পালিশ, গমের ভূষি, ভুট্টার গুড়া, মলাসেস ইত্যাদি) পদার্থ প্রয়োগ করতে হবে।
C:N অনুপাত নির্দিষ্টকরণের মাধ্যমে হিটারোট্রফিক ও নাইট্রিফাইং ব্যাক্টেরিয়া উৎপাদন করে জলাশয় থেকে TAN অপসারন করে মাছচাষ করার এই প্রযুক্তিকে Nano-Technology বা Biotechnology বলা যেতে পারে।
এপ্রযুক্তির মাধ্যমে মাছচাষ করলে পুকুরে প্রয়োগকৃত প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেড জাতীয় খাদ্যের উপাদান ( N ও C)কে পুনঃব্যবহার করে বায়োফ্লক আকারে জুওপ্লাংক্টন ও ব্যাক্টেরিয়া তৈরি করা যায় এবং এই জুওপ্লাংক্টন ও ব্যাক্টেরিয়া আবার মাছে খায়, এভাবে পুকুরে খাদ্য বা পুষ্টির শিকল (Nutrient chain) তৈরি হয়। ফলে মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্রে FCR কমে যায়। উৎপাদন খরচ কমে যায়। মাছচাষ লাভজনক হয়।
তাছাড়া পুকুর বা জলাশয়ে মাছের জন্য ক্ষতিকর অ্যামোনিয়া ( Growth Inhibitor) ও নাইট্রাইট গ্যাস দূরিভূত হয়। এ প্রযুক্তিতে মাছচাষ করলে জুওপ্লাংক্টনভোজী মাছ যেমন কাতলা, বিগহেড মাছ স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং অনুকুল পরিবেশ তৈরির কারনে অন্যান্য মাছের উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়।
জৈব উৎস্যের কার্বন ছাড়া অন্য অজৈব উৎস্যের কার্বন যেমন Co2, HCO3, CO3 থেকে কেমোহিটারোট্রফিক ও কেমোঅটোট্রফিক( নাইট্রিফাইং) ব্যক্টেরিয়া কার্বন গ্রহণ করতে পারেনা, তাই এধরনের ব্যাক্টেরিয়া উৎপাদনের জন্য C:N অনুপাত অনুকুল মাত্রায় নেয়ার জন্য পুকুরে পরিমিত পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট সম্মৃদ্ধ জৈব যৌগের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
পক্ষান্তরে ফটোঅটোট্রফিক ব্যাক্টেরিয়া অজৈব উৎস্যের অর্থাৎ কার্বনডাইঅক্সাইড (CO2) থেকে কার্বন গ্রহণ করে ফাইটোপ্লাংক্টন উৎপন্ন করে এবং এই ফাইটোপ্লাংক্টন পুকুরে অক্সিজেন সরবরাহ করে। অপরদিকে ফাইটোপ্লাংক্টন পানি থেকে আমোনিয়া শোষণ করে কিন্তু তা আধানিবিড় বা নিবিড় চাষ পদ্ধতির জন্য যথেষ্ট নয়।
ফলে আধানিবিড় ও নিবিড়চাষ পদ্ধতির মাছচাষের জলাশয়ে অ্যামোনিয়ার মজুদ ( deposition) বেড়ে যায়। এসব পুকুর ও জলাশয়ে অক্সিজেনসহ পানির অন্যান্য প্যারামিটার বা ফ্যাক্টরগুলো সঠিক থাকলেও শুধুমাত্র C: N , এই অনুপাত অনুকূল মাত্রায় না থাকায় হিটারোট্রফিক ও নাইট্রিফাইং ব্যাক্টেরিয়া উৎপন্ন হতে পারে না ফলে পুকুরে TAN ( Total ammonia nitrogen) এর পরিমাণ বেড়ে যায়।
সুতরাং মাছচাষের ক্ষেত্রে বা পরামর্শ প্রদানের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।
পুকুর বা জলাশয়ে নাইট্রিফাইং ও কেমোহিটারোট্রফিক ব্যাক্টেরিয়া উৎপাদনের জন্য কার্বনের উৎস্য হিসেবে মাছচাষের পুকুরে প্রোটিন সম্মৃদ্ধ খাদ্যের পাশাপাশিঃ-
১) কার্বোহাইড্রেট জাতীয় উপাদান পুকুর বা জলাশয়ে ছিটিয়ে দেয়া যেতে পারে। কিন্তু এগুলোর বর্তমান মূল্য বেশি বিধায় উৎপাদন খরচ তেমন কমবে না।
২) কার্বনের উৎস্য হিসেবে একসময় পুকুরে স্বল্প বা বিনামূল্যের গোবর প্রয়োগ করা হতো। ভালো মাছচাষ অনুশীলন ( GAP) করতে গিয়ে মাছচাষের পুকুরে গোবর প্রয়োগকে নিরুৎসাহিত বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এটি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র বলে মনে করি ( এটি আমার একান্তই ব্যক্তিগত মতামত)।
৩) বিকল্প হিসেবে খড় (hay) ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি উঁচু স্তরের কার্বোহাইড্রেট বিধায় পচনে বেশি অক্সিজেন প্রয়োজন হয়।
৪) অধিক প্রোটিন সম্মৃদ্ধ খাদ্য প্রয়োগ করলে পুকুরে ফাইটোপ্লাংক্টন উৎপন্ন হয়। অনেক সময় ফাইটোপ্লাংক্টনের ব্লুমও তৈরি হয়। এই ফাইটোপ্লাংক্টন মারা গেলেও ( Planktonic die off) এই মৃত প্লাংক্টন মাছচাষের পুকুরে কার্বনের উৎস্য হিসেবে কাজ করে। তবে এসব পুকুরে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য এয়ারেটর ব্যবহার করতে হবে।
সুতরাং আধানিবিড় ও নিবিড় মাছচাষ পদ্ধতির পুকুর বা জলাশয়ে C:N অনুপাত ও অক্সিজেন, এদুটির সমন্বয় বা অনুকুল মাত্রায় উপস্থিত থাকতে হবে। এদের একটি ছাড়া অন্যটি অকার্যকর অথবা ক্ষতিকর। ফলে semi-intensive, Intesive or Super-intensive পদ্ধতিতে মাছচাষ করতে প্রয়োজন অনুযায়ী পুকুরে কার্বন সরবরাহ করে এবং এয়ারেটর স্থাপন করে উল্লেখিত C:N অনুপাত ও অক্সিজেন, এদুটির পর্যাপ্ততা তথা সহবস্থানের বিষয়টি ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে।
মানুষের চাহিদা বদলাচ্ছে, নতুন প্রযুক্তি আসছে। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় টিকে থাকতে দক্ষতার বিকল্প নেই।
মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমাদের বর্তমানের এ অর্জন ধরে রাখতে হলেও অথবা উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করতে হলে এসব Nano- Technology বিষয়ে আমাদেরকে দক্ষ ও মনোযোগী হতে হবে।
লেখক-Md.Abdus Salam PK
আধানিবিড় বা নিবিড় চাষ পদ্ধতিতে চাষিরা বিভিন্ন প্রজাতির মাছচাষের পুকুর বা জলাশয়ে ২৫- ৩৫% প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য প্রয়োগ করে থাকেন। এসব খাদ্যে কার্বন(C) ও নাইট্রোজেন( N) উভয় ধরনের মৌলই রয়েছে।
বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন, মাছচাষের পুকুরে যত বেশি উচ্চমাত্রার প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য প্রয়োগ করা হবে সেই পুকুরে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বেশি হবে এবং কার্বনের পরিমাণ কমে যাবে। নাট্রোজেনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া অর্থই হলো পুকুর বা জলাশয়ে ক্ষতিকারক অ্যামোনিয়া ও নাইট্রাইটের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া।
এই অ্যামোনিয়া ও নাইট্রাইটকে জুওপ্লাংক্টনে রুপান্তর করে চাষের পুকুর বা জলাশয় থেকে এসব ক্ষতিকর গ্যাস দূর করার জন্য C:N এর অনুপাত ১৫-২০ঃ১ হওয়া বাঞ্ছনীয়।
আমরা মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য উন্নতমানের খাদ্য প্রয়োগ বলতে উচ্চ হারের প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য প্রয়োগ করাই বুঝি। উন্নতমানের এই খাদ্য ক্ষেত্র বিশেষে মাছের শরীরের ওজনের ২-১০% হারে প্রয়োগ করে থাকি।
নিম্নে Professor Yoram Avnimelech, Technion, Israel Institute of Technology, Haifa, Israel এর গবেষণা লব্ধ বিভিন্ন মাত্রার প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য প্রয়োগে C:N অনুপাতের একটি হিসাব নিম্নে দেয়া হলো।
দেখা যাচ্ছে যত বেশি উচ্চ মাত্রার প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য প্রয়োগ করা হয়েছে , মাছ চাষের পুকুরে ততই কার্বনের পরিমাণ কমে গিয়েছে, অপরদিকে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছে।
Professor Yoram এর গবেষণালব্ধ C:N অনুপাত (প্রায়)-
২০% প্রোটিনের খাদ্য প্রয়োগে C:N=16:1
২৫% প্রোটিনের খাদ্য প্রয়োগে C:N=13:1
৩০% প্রোটিনের খাদ্য প্রয়োগে C:N=11:1
৩৫% প্রোটিনের খাদ্য প্রয়োগে C:N=9:1
৪০% প্রোটিনের খাদ্য প্রয়োগে C:N=8:1
সুতরাং উচ্চমাত্রার প্রোটিন যুক্ত খাদ্য প্রয়োগে পুকুর বা জলাশয়ে কার্বন ও নাইট্রোজেনের সৃষ্ট এই অনুপাত জুওপ্লাংক্টন উৎপাদনের জন্য সহায়ক নয়। হয়তো ভাবতে পারেন জুওপ্লাংক্টন তৈরি না হউক পুকুরে মাছের জন্য খাদ্যতো প্রয়োগ করছি। কিন্তু এর ফলে কি হয়?
মাছচাষের পুকুরে TAN( total ammonia nitrogen) এর পরিমাণ বৃদ্ধি পায় আর এই অ্যামোনিয়া মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে বাধা দেয় (Growth inhibitor)। এরুপ মাছচাষে FCR বেশি হয়। মাছচাষ অলাভজনক হয় বা ধবংস হয়। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে পুকুরে অ্যামোনিয়া ও নাইট্রাইটের আধিক্য থাকলে মাছে বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দেয়।
কিন্তু মাছচাষের পুকুরে C:N =১৫- ২০:১ অনুপাতে থাকলে হিটারোট্রফিক ব্যক্টেরিয়া এই কার্বন ও নাইট্রোজেন কে জুওপ্লাংক্টন ( Biofloc) এ রুপান্তরিত করে এবং নাইট্রিফাইং ব্যাক্টেরিয়া ক্ষতিকর অ্যামোনিয়া (NH3) ও নাইট্রাইট ( NO2) গ্যাসকে ননটক্সিক নাইট্রেটে (NO3) এ রুপান্তরিত করে।
সুতরাং আধা নিবিড় বা নিবিড় পদ্ধতির মাছচাষকে লাভজনক করতে গেলে পুকুরের C:N অনুপাত অনুকূল মাত্রায় নেয়ার জন্য পুকুরে গুণগত মানের খাদ্যের পাশাপাশি কার্বোহাইড্রেড জাতীয় ( কার্বন উৎস্যের জৈব পদার্থ যেমনঃ- গমের আটা, চাউলের গুড়া,অটো রাইস পালিশ, গমের ভূষি, ভুট্টার গুড়া, মলাসেস ইত্যাদি) পদার্থ প্রয়োগ করতে হবে।
C:N অনুপাত নির্দিষ্টকরণের মাধ্যমে হিটারোট্রফিক ও নাইট্রিফাইং ব্যাক্টেরিয়া উৎপাদন করে জলাশয় থেকে TAN অপসারন করে মাছচাষ করার এই প্রযুক্তিকে Nano-Technology বা Biotechnology বলা যেতে পারে।
এপ্রযুক্তির মাধ্যমে মাছচাষ করলে পুকুরে প্রয়োগকৃত প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেড জাতীয় খাদ্যের উপাদান ( N ও C)কে পুনঃব্যবহার করে বায়োফ্লক আকারে জুওপ্লাংক্টন ও ব্যাক্টেরিয়া তৈরি করা যায় এবং এই জুওপ্লাংক্টন ও ব্যাক্টেরিয়া আবার মাছে খায়, এভাবে পুকুরে খাদ্য বা পুষ্টির শিকল (Nutrient chain) তৈরি হয়। ফলে মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্রে FCR কমে যায়। উৎপাদন খরচ কমে যায়। মাছচাষ লাভজনক হয়।
তাছাড়া পুকুর বা জলাশয়ে মাছের জন্য ক্ষতিকর অ্যামোনিয়া ( Growth Inhibitor) ও নাইট্রাইট গ্যাস দূরিভূত হয়। এ প্রযুক্তিতে মাছচাষ করলে জুওপ্লাংক্টনভোজী মাছ যেমন কাতলা, বিগহেড মাছ স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং অনুকুল পরিবেশ তৈরির কারনে অন্যান্য মাছের উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়।
জৈব উৎস্যের কার্বন ছাড়া অন্য অজৈব উৎস্যের কার্বন যেমন Co2, HCO3, CO3 থেকে কেমোহিটারোট্রফিক ও কেমোঅটোট্রফিক( নাইট্রিফাইং) ব্যক্টেরিয়া কার্বন গ্রহণ করতে পারেনা, তাই এধরনের ব্যাক্টেরিয়া উৎপাদনের জন্য C:N অনুপাত অনুকুল মাত্রায় নেয়ার জন্য পুকুরে পরিমিত পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট সম্মৃদ্ধ জৈব যৌগের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
পক্ষান্তরে ফটোঅটোট্রফিক ব্যাক্টেরিয়া অজৈব উৎস্যের অর্থাৎ কার্বনডাইঅক্সাইড (CO2) থেকে কার্বন গ্রহণ করে ফাইটোপ্লাংক্টন উৎপন্ন করে এবং এই ফাইটোপ্লাংক্টন পুকুরে অক্সিজেন সরবরাহ করে। অপরদিকে ফাইটোপ্লাংক্টন পানি থেকে আমোনিয়া শোষণ করে কিন্তু তা আধানিবিড় বা নিবিড় চাষ পদ্ধতির জন্য যথেষ্ট নয়।
ফলে আধানিবিড় ও নিবিড়চাষ পদ্ধতির মাছচাষের জলাশয়ে অ্যামোনিয়ার মজুদ ( deposition) বেড়ে যায়। এসব পুকুর ও জলাশয়ে অক্সিজেনসহ পানির অন্যান্য প্যারামিটার বা ফ্যাক্টরগুলো সঠিক থাকলেও শুধুমাত্র C: N , এই অনুপাত অনুকূল মাত্রায় না থাকায় হিটারোট্রফিক ও নাইট্রিফাইং ব্যাক্টেরিয়া উৎপন্ন হতে পারে না ফলে পুকুরে TAN ( Total ammonia nitrogen) এর পরিমাণ বেড়ে যায়।
সুতরাং মাছচাষের ক্ষেত্রে বা পরামর্শ প্রদানের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।
পুকুর বা জলাশয়ে নাইট্রিফাইং ও কেমোহিটারোট্রফিক ব্যাক্টেরিয়া উৎপাদনের জন্য কার্বনের উৎস্য হিসেবে মাছচাষের পুকুরে প্রোটিন সম্মৃদ্ধ খাদ্যের পাশাপাশিঃ-
১) কার্বোহাইড্রেট জাতীয় উপাদান পুকুর বা জলাশয়ে ছিটিয়ে দেয়া যেতে পারে। কিন্তু এগুলোর বর্তমান মূল্য বেশি বিধায় উৎপাদন খরচ তেমন কমবে না।
২) কার্বনের উৎস্য হিসেবে একসময় পুকুরে স্বল্প বা বিনামূল্যের গোবর প্রয়োগ করা হতো। ভালো মাছচাষ অনুশীলন ( GAP) করতে গিয়ে মাছচাষের পুকুরে গোবর প্রয়োগকে নিরুৎসাহিত বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এটি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র বলে মনে করি ( এটি আমার একান্তই ব্যক্তিগত মতামত)।
৩) বিকল্প হিসেবে খড় (hay) ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি উঁচু স্তরের কার্বোহাইড্রেট বিধায় পচনে বেশি অক্সিজেন প্রয়োজন হয়।
৪) অধিক প্রোটিন সম্মৃদ্ধ খাদ্য প্রয়োগ করলে পুকুরে ফাইটোপ্লাংক্টন উৎপন্ন হয়। অনেক সময় ফাইটোপ্লাংক্টনের ব্লুমও তৈরি হয়। এই ফাইটোপ্লাংক্টন মারা গেলেও ( Planktonic die off) এই মৃত প্লাংক্টন মাছচাষের পুকুরে কার্বনের উৎস্য হিসেবে কাজ করে। তবে এসব পুকুরে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য এয়ারেটর ব্যবহার করতে হবে।
সুতরাং আধানিবিড় ও নিবিড় মাছচাষ পদ্ধতির পুকুর বা জলাশয়ে C:N অনুপাত ও অক্সিজেন, এদুটির সমন্বয় বা অনুকুল মাত্রায় উপস্থিত থাকতে হবে। এদের একটি ছাড়া অন্যটি অকার্যকর অথবা ক্ষতিকর। ফলে semi-intensive, Intesive or Super-intensive পদ্ধতিতে মাছচাষ করতে প্রয়োজন অনুযায়ী পুকুরে কার্বন সরবরাহ করে এবং এয়ারেটর স্থাপন করে উল্লেখিত C:N অনুপাত ও অক্সিজেন, এদুটির পর্যাপ্ততা তথা সহবস্থানের বিষয়টি ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে।
মানুষের চাহিদা বদলাচ্ছে, নতুন প্রযুক্তি আসছে। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় টিকে থাকতে দক্ষতার বিকল্প নেই।
মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমাদের বর্তমানের এ অর্জন ধরে রাখতে হলেও অথবা উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করতে হলে এসব Nano- Technology বিষয়ে আমাদেরকে দক্ষ ও মনোযোগী হতে হবে।
লেখক-Md.Abdus Salam PK


0 Comments