Ticker

8/recent/ticker-posts

আগামীর মাছ আমেরিকার পমফ্রেট

 পমফ্রেটের স্বাদের সঙ্গে সকলে কমবেশি পরিচিত হলেও আমেরিকান পমফ্রেটের সঙ্গে মৎস্যপ্রিয় বাঙালির এখনও তেমন সখ্যতা হয়নি। দেশের বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছের বাজারে এই পমফ্রেট মাঝে মধ্যে দেখা গেলেও ইলিশ, ভোলা, চিংড়ির মতো ততটা পরিচিত নয়। তবে মৎস্য দপ্তরের দাবি, আমেরিকান পমফ্রেট অল্প পরিচিত সামুদ্রিক মাছ হলেও এর স্বাদ অতুলনীয়। সেই কারণে দেশ ও বিদেশের বাজারে এই মাছের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। ভারত মহসাগর, আরব সাগর-সহ আমেরিকা ও চিনের সমুদ্র এলাকায় এই সামুদ্রিক আমেরিকান পমফ্রেট পাওয়া যায়। হালে এই মাছের কৃত্রিম প্রজনন করে ভারতের নোনা জলেও চাষ শুরু হয়েছে। হলদিয়ায় দুই চিংড়ি চাষি মাছের চারা এনে ঘেরে চাষ শুরু করেছেন।'বর্তমানে আমাদের দেশে মাছের চারা উৎপাদন হয় না। তবে এটি কৃত্রিম প্রজনন করা যায়। আমাদের আশা, অন্যান্য মাছ চাষিদের কাছেও এই মাছের চাষ জনপ্রিয় হবে।' 

আমাদের দেশে আমেরিকান পমফ্রেটের চাষের প্রচলন তেমন একটা না-থাকলেও আমেরিকা, চিন, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও তাইওয়ানে এই মাছের চাষ করা হয় বাণিজ্যিক ভাবে। 

চিংড়ি চাষের ভেড়ি/ঘের থেকে একবার চিংড়ি তুলে নেওয়ার পর পরবর্তী চারা ছাড়ার মধ্যবর্তী সময়ে বিকল্প মাছের চাষ হিসেবে এই আমেরিকান পমফ্রেটের চাষ করা হয় বলে জানিয়েছেন ভারতীয় মৎস্য দপ্তর। চিংড়ির জমিতে এই মাছের চাষ যেমন লাভজনক তেমনি কোনও কারণে চিংড়ি চাষে লোকসান হলে তা এই মাছের চাষ করে অনেকটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব । এক্সপোর্টের সম্ভাবনা থাকায় এই মাছ চাষে প্রচুর লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।'

আমেরিকান পমফ্রেটের বৈজ্ঞানিক নাম ট্রাচিনোটাস ব্লোচি। এই মাছ সহনশীল বলে কম নোনা জল বা অধিক নোনা জলে ভালো বাড়ে। চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে ৪৫০-৫০০ গ্রাম ওজনের হয় এই মাছ। ভারতের তামিলনাড়ুতে মান্ডাপমে অবস্থিত সেন্ট্রাল মেরিন ফিসারি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে এই মাছে কৃত্রিম প্রজনন ঘটিয়ে নোনা জলে চাষের জন্যে চারা তৈরি করা হয়েছে। 

তাই বাংলাদেশের মৎস্য অধিদফতর উদ্যেগ নিলে এই আমেরিকান পমফ্রেট মাছ হবে আগামীর মাছ। যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি। 

ধন্যবাদ 

কৃষিবিদ আরিফ হাসান 




Post a Comment

0 Comments

Ad Code

Responsive Advertisement