মাছের অতিসাধারণ পরজীবী হলো উকুন। এ পরজীবী দ্বারা সংঘটিত মাছের রোগকে Aurgulusosis বলে। উকুন হলো ক্রাস্টাসিয়ান (Crustaceans) subphylum এর অন্তর্গত Maxillopoda শ্রেণীর Branchiura উপশ্রেণীর পরজীবী । দেখতে উপরে নিচে চ্যাপ্টা চাকতির মত, রঙ জেলির মত এবং বয়স্ক উকুনের ব্যাস ৫-১০ মি.মি. হয়ে থাকে। পৃথিবীতে প্রায় ১৫০ প্রজাতির Argulus দেখা যায়( Bykhovskaya- Pavlovskaya 1964, Baucer 1991). তনমধ্যে স্বাদু পানির প্রধান উকুন হলো Argulus foliaceus, Argulus japonicus, এবং Argulus coregoni. এ উকুনগুলো তাদের জীবনচক্রের বেশিরভাগ সময় মাছকে পোষক(host) হিসেবে ব্যবহার করে বেঁচে থাকে( Ebrahimzadeh Mousavi et al., 2011; Woo and Buchmann, 2012).
মাছের শরীরে লেগে থাকার সময় বয়ষ্ক উকুনকে অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়াই খালি চোখে দেখা যায়। এরা সাকার, হুক ও বার্ব দিয়ে মাছের শরীরে আটকে থাকে এবং মাছের শরীর থেকে রক্ত শোষণ করে।
Life Cycle:
ডিম দেয়ার সময় স্ত্রী উকুন মাছের শরীর ছেড়ে গিয়ে উদ্ভিদ অথবা পানিতে নিমজ্জিত শক্ত বস্তুর উপর ডিম ছাড়ে। ডিমগুলো আঠালো অবস্থায় শক্ত বস্তুতে লেগে থাকে। ডিমগুলি ফুটতে ৩৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ১০ দিন এবং ১৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ৬১ দিন সময় লাগে। Argulus japonicus সব সময় ডিম পেড়ে থাকে তবে শীতকালে ডিমগুলো সুপ্ত (dormant) অবস্থায় থাকে এবং বসন্তকালে (spring) তাপমাত্রা বাড়লে ডিম ফুটে লার্ভি জন্মলাভ করে। গ্রীষ্মকালে ডিম ফুটে লার্ভি জন্মলাভ করতে ৩-৪ সপ্তাহ সময় লাগে। এ লার্ভি প্রথম ১/২ দিন yolk sac থেকে পুষ্টি নিয়ে থাকে। এ অবস্থায় পোষক না পেলে ৪ দিন বাঁচতে পারে। বয়স্ক উকুন পোষক (host) না পেলে ১৫ দিন বাঁচতে পাড়ে।
সাধারণত শীতের পর বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে মাছ উকুন দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তবে মাছকে সঠিক পরিমাণে পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার দিলে সেসব মাছ পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। এ ছাড়া পানির গুণাগুণ সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করেও এ পরজীবী থেকে মাছকে রক্ষা করা যায়।
Symtoms:
মাছের লাফালাফি দেখলে, পুকুর বা জলাশয়ের পাড়ের ধারে বা তলদেশে মাছের শরীর ঘষতে ( rubbing) দেখলে বুঝতে হবে মাছ উকুন বা অন্য কোন পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া মাছের শরীরে ফুটা ফুটা লাল দাগ দেখা যাবে। পাখনা ও ফুলকা দিয়ে মিউকাস নিঃসৃত হবে। উকুন দ্বারা বেশি আক্রান্ত হলে মাছকে lethargic মনে হবে। মাছের বর্ণ নষ্ট হবে। উকুন দ্বারা আক্রান্ত মাছের ত্বকে বা আঁইশের ওপর, পাখনার গোড়া বা পাখনায় অথবা লেজে লেগে থাকা অবস্থায় খালি চোখে দেখা যায়। উকুন দ্বারা আক্রান্ত মাছ পরবর্তীতে ব্যাক্টেরিয়া ও ফানগাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকে।
Treatment:
১) ডেলটা মেথ্রিন( ডেসিস, সিনোসিস, ডিলেট্রিক্স ইত্যাদি)ঃ- ৩ মি.লি./ বিঘা / ফুট পানি। এই হিসেবে ৭ দিন পর পর ২/৩ বার প্রয়োগ করলে উকুন মারা যাবে।
২) সাইপার মেথ্রিন ( সাইথ্রিন, রিপকর্ট, ওস্তাদ,রিলোথ্রিন ইত্যাদি)ঃ- ১ মি.লি./ শতাংশ/ফিট পানি। এই হিসেবে ৭ দিন পর পর ২/৩ বার প্রয়োগ করলে উকুন মারা যাবে।
৩) Organophosphate( বর্তমানে প্রয়োগ নিষিদ্ধ যেমনঃ সুমিথিয়ন, ম্যালাথিয়ন ইত্যাদি)ঃ- ৩ মি.লি./ শতাংশ/ ফুট পানি। এই হিসেবে ৭ দিন পর পর ২/৩ বার প্রয়োগ করলে উকুন মারা যাবে।
৪) লবণ ঃ ১.৫% লবণ যুক্ত পানিতে উকুনে আক্রান্ত মাছকে ১৫-৩০ মিনিট গোসল করালে মাছ উকুনমুক্ত হবে।
তবে অযথা ঘন ঘন উপরোক্ত ঔষধ দিয়ে পুকুর বা জলাশয়ে উকুন মারার চেষ্টা করা হলে পরবর্তীতে উকুনের তা সহ্য ক্ষমতা বেড়ে যাবে তখন ঔষধ বেশি লাগবে এবং এক সময় এসব ঔষধে আর কাজ হবে না। তাই পুকুর বা জলাশয়ের মাছ উকুন দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিঃশ্চিত হওয়ার পর ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে।
এছাড়া পুকুর বা জলাশয়ে বাঁশ অথবা বাঁশের কঞ্চি, গাছের শুকনো ডাল ইত্যাদি রেখে দিলে তাতে উকুন ডিম দিবে এবং আঠালো ডিম তাতে লেগে থাকবে। এই বাঁশ, কঞ্চি বা ডাল উঠিয়ে রৌদ্রে ৭ দিন ধরে শুকালে ডিমগুলো মারা যাবে। এই শুকানো বাঁশ বা কঞ্চি পুনঃরায় পুকুরে দিতে হবে এবং আবার শুকাতে হবে। এভাবে বাঁশ বা কঞ্চি পুকুর বা জলাশয়ে বারবার দিয়ে এবং শুকিয়ে উকুন নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
মাছের শরীরে লেগে থাকার সময় বয়ষ্ক উকুনকে অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়াই খালি চোখে দেখা যায়। এরা সাকার, হুক ও বার্ব দিয়ে মাছের শরীরে আটকে থাকে এবং মাছের শরীর থেকে রক্ত শোষণ করে।
Life Cycle:
ডিম দেয়ার সময় স্ত্রী উকুন মাছের শরীর ছেড়ে গিয়ে উদ্ভিদ অথবা পানিতে নিমজ্জিত শক্ত বস্তুর উপর ডিম ছাড়ে। ডিমগুলো আঠালো অবস্থায় শক্ত বস্তুতে লেগে থাকে। ডিমগুলি ফুটতে ৩৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ১০ দিন এবং ১৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ৬১ দিন সময় লাগে। Argulus japonicus সব সময় ডিম পেড়ে থাকে তবে শীতকালে ডিমগুলো সুপ্ত (dormant) অবস্থায় থাকে এবং বসন্তকালে (spring) তাপমাত্রা বাড়লে ডিম ফুটে লার্ভি জন্মলাভ করে। গ্রীষ্মকালে ডিম ফুটে লার্ভি জন্মলাভ করতে ৩-৪ সপ্তাহ সময় লাগে। এ লার্ভি প্রথম ১/২ দিন yolk sac থেকে পুষ্টি নিয়ে থাকে। এ অবস্থায় পোষক না পেলে ৪ দিন বাঁচতে পারে। বয়স্ক উকুন পোষক (host) না পেলে ১৫ দিন বাঁচতে পাড়ে।
সাধারণত শীতের পর বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে মাছ উকুন দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তবে মাছকে সঠিক পরিমাণে পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার দিলে সেসব মাছ পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। এ ছাড়া পানির গুণাগুণ সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করেও এ পরজীবী থেকে মাছকে রক্ষা করা যায়।
Symtoms:
মাছের লাফালাফি দেখলে, পুকুর বা জলাশয়ের পাড়ের ধারে বা তলদেশে মাছের শরীর ঘষতে ( rubbing) দেখলে বুঝতে হবে মাছ উকুন বা অন্য কোন পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া মাছের শরীরে ফুটা ফুটা লাল দাগ দেখা যাবে। পাখনা ও ফুলকা দিয়ে মিউকাস নিঃসৃত হবে। উকুন দ্বারা বেশি আক্রান্ত হলে মাছকে lethargic মনে হবে। মাছের বর্ণ নষ্ট হবে। উকুন দ্বারা আক্রান্ত মাছের ত্বকে বা আঁইশের ওপর, পাখনার গোড়া বা পাখনায় অথবা লেজে লেগে থাকা অবস্থায় খালি চোখে দেখা যায়। উকুন দ্বারা আক্রান্ত মাছ পরবর্তীতে ব্যাক্টেরিয়া ও ফানগাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকে।
Treatment:
১) ডেলটা মেথ্রিন( ডেসিস, সিনোসিস, ডিলেট্রিক্স ইত্যাদি)ঃ- ৩ মি.লি./ বিঘা / ফুট পানি। এই হিসেবে ৭ দিন পর পর ২/৩ বার প্রয়োগ করলে উকুন মারা যাবে।
২) সাইপার মেথ্রিন ( সাইথ্রিন, রিপকর্ট, ওস্তাদ,রিলোথ্রিন ইত্যাদি)ঃ- ১ মি.লি./ শতাংশ/ফিট পানি। এই হিসেবে ৭ দিন পর পর ২/৩ বার প্রয়োগ করলে উকুন মারা যাবে।
৩) Organophosphate( বর্তমানে প্রয়োগ নিষিদ্ধ যেমনঃ সুমিথিয়ন, ম্যালাথিয়ন ইত্যাদি)ঃ- ৩ মি.লি./ শতাংশ/ ফুট পানি। এই হিসেবে ৭ দিন পর পর ২/৩ বার প্রয়োগ করলে উকুন মারা যাবে।
৪) লবণ ঃ ১.৫% লবণ যুক্ত পানিতে উকুনে আক্রান্ত মাছকে ১৫-৩০ মিনিট গোসল করালে মাছ উকুনমুক্ত হবে।
তবে অযথা ঘন ঘন উপরোক্ত ঔষধ দিয়ে পুকুর বা জলাশয়ে উকুন মারার চেষ্টা করা হলে পরবর্তীতে উকুনের তা সহ্য ক্ষমতা বেড়ে যাবে তখন ঔষধ বেশি লাগবে এবং এক সময় এসব ঔষধে আর কাজ হবে না। তাই পুকুর বা জলাশয়ের মাছ উকুন দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিঃশ্চিত হওয়ার পর ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে।
এছাড়া পুকুর বা জলাশয়ে বাঁশ অথবা বাঁশের কঞ্চি, গাছের শুকনো ডাল ইত্যাদি রেখে দিলে তাতে উকুন ডিম দিবে এবং আঠালো ডিম তাতে লেগে থাকবে। এই বাঁশ, কঞ্চি বা ডাল উঠিয়ে রৌদ্রে ৭ দিন ধরে শুকালে ডিমগুলো মারা যাবে। এই শুকানো বাঁশ বা কঞ্চি পুনঃরায় পুকুরে দিতে হবে এবং আবার শুকাতে হবে। এভাবে বাঁশ বা কঞ্চি পুকুর বা জলাশয়ে বারবার দিয়ে এবং শুকিয়ে উকুন নিয়ন্ত্রণ করা যায়।


1 Comments
This is a good article for fish culture
ReplyDelete